ফ্রিল্যাসিং বা আউটসোর্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত

0

আমরা অনেকেই ফ্রিল্যাসিং বা আউটসোর্সিং নিয়ে আগ্রহী আর এয় আগ্রহের পিছনে কারন ও রয়েছে যথার্থ। সেই কথা বিবেচনা করেই আজকের পোষ্ট করা।

সকালে ঘুম থেকে উথেই চোখ ডলতে ডলতে ভাবতে হয় অফিসে যাবার কথা, মনের অজান্তেই ভেসে ওঠে রাস্তার জ্যাম, ঘর্মাক্ত শরীর আর বসের উচ্চ স্বর। ভাবি ইসস যদি এমন হত, ঘরে বসেই কাজ করা যেত। উচ্চ স্বরে বকাবকির কেউ যদি না থাকত। যদি ইছে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতাম কতই না ভাল হত। এই ভাবনা থেকেই চলে আসে ফ্রিল্যাসিং বা আউটসোর্চিং-এর কথা।

আপনি ভিজুয়াল লার্নার হয়ে থাকলে ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন না হলে নিচের আর্টিকেলটি পড়ে নিতে পারেন।

ফ্রিল্যাসিং বা আউটসোর্সিং কি?

সহজ কথায় বললে ফ্রিল্যাসিং বা আউটসোর্সিং হল কাজের এমন একটি প্রণালী যা আপনাকে স্বাধীনতা বা ফ্লেক্সিবিলিটি দেবে। আপনি কোন ক্লাইন্টের কাছ থেকে কোন কাজ নিয়ে যেখানে ইচ্ছে সেখানে বসে করে ডেলিভার করতে পারেন, আপনি নিজে কোন ডিজিটাল কন্টেনট তৈরি করে সেটি সেল করতে পারেন বা আপনি অন্য কোন বেক্তির কোন প্রোডাক্ট প্রমোট করে ইনকাম করতে পারেন। আজ আমি আপনাদের সাথে ফ্রিল্যাসিং করে টাকা ইনকাম করার ৫টি পন্থার কথা বলব।

সেগুলো হল:

  1. ফ্রিল্যাসিং বা আউটসোর্সিং ওয়েবসাইট
  2. এ্যফিলিয়েট মারকেটিং
  3. নিজের প্রোডাক্ট/সার্ভিস সেল
  4. ইউটিউব
  5. ব্লগ

ফ্রিল্যাসিং বা আউটসোসিং ওয়েবসাইট:

এই পদ্ধতিটি অনেক জনপ্রিয়। এর জন্য আপনাকে প্রথমেই যেকোন একটি স্কিলে দক্ষ হতে হবে। সেটি হতে পারে গ্রাফিক্স ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং, ওয়েব ডিজাইনিং, সফটওয়্যার ডেভলপিং, ডেটা এন্ট্রি ইত্যাদি। আগে নিজেকে ডিস্কভার করুন কোন বিষয়টিতে আপনি দক্ষ, দক্ষতা না থাকলে যে বিষয়ে আপনার আগ্রহ বেশী সেটি শিখতে লেগে পড়ুন আজই। এর পরে যেকোন একটি ফ্রিল্যাসিং সাইটে রেজিস্ট্রেশান করে ফেলুন।

Upwork, Freelancer, Guru, People per Hour ইত্যাদি কিছু ভাল ফ্রিল্যাসিং সাইট। রেজিস্ট্রেশনের পরে নিজের একটি প্রোফাইল তৈরি করুন। প্রোফাইল সেটআপ করার পরে খুব ধৈর্য সহকারে আপনি যে কাজ গুলো জানেন সে ধরনের প্রোজেক্টে অ্যাপ্লাই করতে থাকুন। মনে রাখবের  ধৈর্য ছাড়া এই সেক্টরে আপনি সামনে যেতে পারবেন না। দুই একটি কাজে অ্যাপ্লাই করেই কাজ পাবেন সেটি মনে করলে এখানেই থামুন।

এ্যফিলিয়েট মারকেটিং:

অনলাইনে ইনকাম করার আর একটি জনপ্রিয় অপশন হল এ্যফিলিয়েট মার্কেটিং। এ্যফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনি যেকোন বেক্তি বা কম্পানির কোন প্রোডাক্ট প্রোমোট করে ইনকাম করতে পারবেন। ধরুন আপনি একটি ক্যামেরা নিয়ে একটি রিভিউ লিখলেন বা ভিডিও তৈরি করলেন এবং লিখনির শেষে বা ভিডিওর শেষে বলে দিলেন কেউ যদি এই ক্যামেরাটি কিনতে আগ্রহী হন এই লিঙ্ক থেকে কিনে নিতে পারেন।

ওই নির্দিষ্ট লিঙ্কটিই হবে আপনার এ্যফিলিয়েট লিঙ্ক। যে কেউ ওই লিঙ্কের মাধ্যমে প্রবেশ করে যদি ক্যামেরাটি কিনে তাহলে একটি নির্দিষ্ট % কমিশন ওই কম্পানি আপনাকে দিবে। অনেক ওয়েব সাইট আছে যেমন Amazon সুধু ওই ক্যামেরাই না বরং আপনার লিঙ্ক দিয়ে প্রবেশ করে ২৪ ঘন্টার মাঝে সে যদি অন্য কোন প্রোডাক্টও কেনে তার একটি নির্দিষ্ট % কমিশন আপনি পাবেন।

নিজের প্রোডাক্ট/সার্ভিস সেল:

আপনি চাইলে অন্য কারো কাজ না করে নিজেই একটি ব্র্যান্ড তৈরি করে নিতে পারেন। গ্রাফিক্সে আপনি দক্ষ হলে বিভিন্ন লোগো, ব্যানার, বিজনেস কার্ড ইত্যাদি বা আপনি কোডিং-এ দক্ষ হলে বিভিন্ন সফটওয়্যার, ওয়েব ডিজাইন সার্ভিস, ওয়েবসাইট থিম ইত্যাদি সেল করতে পারে। সেল করার জন্য আপনি নিজের ওয়েবসাইটে বা অন্য কোন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেল করতে পারবেন। Envato এ ধরনের একটি ওয়েবসাইটের উদাহরণ।

ইউটিউব:

আপনারা সবাই জানের এখন অনলাইন ইনকামের অন্যতম একটি মাধ্যম হল ইউটিউব। আপনি ইউটিউবে যেকোন ধরনের কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন। যে বিষয়টি আপনি ভাল জানেন সেটি নিয়ে ভিডিও তৈরি করতে শুরু করুন। হতে পারে সেতে টিওটরিয়াল, হতে পারে ভ্লগ, হতে পারে ভ্রমন চিত্র। আপনার সব ভিডিওর একত্রিত ভিউ যখন ১০,০০০ হবে আপনি পার্টনার হিসেবে অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্লাই করতে পারবেন। ইউটিউব রিভিউ করে যদি মনে করে আপনার কন্টেন্ট গুলো মানসম্মত তাহলে অ্যাডসেন্স এপ্লিকেশন এপ্রুভ করবে।

এর পর থেকে আপনার মনেটাইজ করা ভিডিও গুলোতে অ্যাড প্রদর্শন করা শুরু হবে। ভিউ যত বেশী হবে আপনার ইনকামের পরিধি ও বারতে থাকবে।ইউটিউবে কোন চ্যানেল প্রতিস্থা করার জন্য আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে এবং ধৈর্য  নিয়ে মানসম্মত ভিডিও তৈরি করতে হবে। ইউটিউব এখন অনেক কঠোর হয়ে গেছে। কোন ভুল পেলেই অগ্রীম বার্তা ছাড়া আপনার সাধের চ্যানেলটি সাসপেন্ড করে দিতে পারে। তাই কোন চ্যানেল তৈরি করার আগে দয়া করে ইউটিউবের কমিউনিটি গাইডলাইনস এবং টার্মস অ্যান্ড কন্ডিসনস গুলো পড়ে নিবেন।

ব্লগ:

অনলাইনে ইনকামের অনেক পুরাতন কিন্তু ইফেক্টিভ একটি রাস্তা হল ব্লগ লেখনি। ব্লগ মানে কি সেটির সহজ উত্তর হল টেকটিউনস। টেকটিউনস হল একটি ব্লগিং প্লাটফরম। এখানে বিভিন্ন টপিকে আমরা আর্টিকেল লিখি এবং সেটি প্রদর্শিত হয়। টেকটিউনসের নিজের অ্যাড প্রদর্শনের সিস্টেম রয়েছে যার মাধ্যমে অ্যাড প্রদর্শিত হয় আর মাস শেষে যারা অ্যাড দিচ্ছেন টেকটিউনসে তাদেরকে পে করতে হয়। এটি হল মাল্টি ব্লগিং প্লাটফর্ম। আপনি এধরনের ব্লগিং সাইট তৈরি করতে পারেন বা শুধু আপনিই লিখবেন সে ধরনের ও একটি সাইট তৈরি করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে অ্যাডসেন্স সংযুক্ত করে অ্যাড রেভিনিউ পেতে পারেন।

আমার ব্যক্তিগত মতামতঃ

আপনারা অনেকেই আছেন যারা খুব সহজ পন্থায় অনলাইনে ইনকাম করতে চান। তাদের জন্য বলব অনলাইনে ইনকামের কোন রাস্তাই সহজ নয়। যেভাবেই অনলাইনে আপনি ক্যারিয়ার করতে যাবেন আপনার পরিশ্রম করতে হবে। উপরে বর্ণিত সকল রাস্তাই শুদ্ধ, ধোকা খাবার সম্ভাব্বতা নেই। আগ্রহ এবং পরিশ্রমী বেক্তি হলে চেস্টা করে দেখতে পারেন। আজ তাহলে এপর্যন্তই। ভাল লেগে থাকলে জানাবেন।

আমাকে ফলো করতে পারেন ফেইসবুকে বা ইউটিউব চানেলে। সবাই ভাল থাকবেন।

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

Leave A Reply