দ্য উইচার থ্রি ওয়াইল্ড হান্ট গেইম

0

জেরাল্ট একজন প্রেতশিকারি। জন্মের পর থেকেই তাকে শেখানো হয়েছে, কী করে অশুভ ও অনিষ্টকারী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।

ডাইনি, প্রেত, দানব সব কিছুর বিরুদ্ধেই তার লড়াই। ‘বাউন্টি হান্টার’ যেমন অর্থের বিনিময়ে অপরাধী ধরে, একজন উইচার সেভাবেই অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেন, বিনিময়ে পারিশ্রমিকও নেন। জেরাল্ট এমনই একজন। একবার রাজকুমারী পাভেত্তার অনাগত সন্তানকে পারিশ্রমিক হিসেবে চেয়েছিলেন জেরাল্ট, ভেবেছিলেন অনাগত সন্তান হবে পুত্র, যাকে জেরাল্ট করতে পারবেন নিজের যোগ্য উত্তরসূরি। কিন্তু রাজকুমারী জন্ম দিলেন এক কন্যার। নানা ঘটনাপ্রবাহের পর জেরাল্ট দত্তক নেন সেই মেয়ে জিরিকে, পালন করতে থাকেন আপন মেয়ের মতোই। সেই মেয়েকেই অপহরণ করে নিয়ে গেছে কারা যেন। হারানো মেয়েকে খুঁজতেই ঘোড়ায় চড়ে পথে বেরিয়েছেন বাবা। পথে আছে বিপদ, দৈত্য-দানোসহ অনেক কিছুই। সব অশুভের মোকাবেলা করে মেয়েকে খুঁজে বের করা এই বাবার ভূমিকায়ই খেলতে হবে গেইমারকে।

উইচার সিরিজটা তৈরি করেছে পোল্যান্ডের সিডি প্রজেক্ট। নব্বইয়ের দশকে পোল্যান্ডের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ধারা অনুযায়ী নব্য উদারনৈতিক রাজনীতির একটা প্রতীকই বলা যায় জেরাল্টকে। একজন দক্ষ পেশাদার, যে নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্বটা পালক করে যায়, ছোটখাটো বিবাদে জড়ায় না। কেউ কেউ বলেন, জেরাল্টের চরিত্রটা অনেকটাই চল্লিশের দশকে রেমন্ড শ্যান্ডলারের লেখা গোয়েন্দা উপন্যাসের নায়ক ফিলিপ মারলোর মতো। ধূমপায়ী, মদ্যপায়ী, ঠোঁটকাটা, উদ্ধত মারলোর ভেতর যে একটা সৃজনশীল মন আছে, সেও যে কবিতা ভালোবাসে সেটা যেমন বোঝা যায় না; তেমনি নির্মম এই উইচারের মনেও যে পিতার ভালোবাসা লুকানো সেটা বোঝা যায় গেইমটা খেললে। গেইমের কাহিনিবিন্যাস পূর্ব ইউরোপের কোনো রূপকথার মতোই। দুর্গ, ড্রাগন, ডাইনি, বামন, হবিট, এলফ সবই আছে বিচিত্র সেই জগতে। আছে বিভিন্ন মাত্রার জগৎ, আন্তজগৎ চলাচলও সম্ভব।

উইচার হিসেবে জেরাল্টের হাতে আছে অনেক অস্ত্র। ইস্পাতের তরবারি, রুপার তরবারি, বোমা, ক্রস বোমাসহ অনেক কিছুই। এ ছাড়া পাওয়া যাবে বর্ম, ঢালসহ অনেক অস্ত্র। আরো আছে জাদুবিদ্যা। গেইমের ভেতর পাওয়া যাবে নানা দ্রব্য। এসব দিয়ে বানানো যাবে জাদু পানীয়, অস্ত্রসহ অনেক কিছু। শত্রুকে হত্যা করে কেড়ে নেওয়া যাবে তার সংগ্রহে থাকা জিনিসপত্র।

এদিকে জেরাল্টের ঘোড়া দৌড়াতে পারে, সাঁতরাতে পারে, দেয়ালেও চড়তে পারে। এসব দক্ষতা, অস্ত্র আর জাদুবিদ্যা নিয়েই মেয়েকে খুঁজতে বেরিয়েছে জেরাল্ট। একেক রাজ্য, একেক গ্রামে গিয়ে তাকে লড়তে হবে একেক রকম ভূত-প্রেতের বিরুদ্ধে। সমৃদ্ধ হবে তার অস্ত্রভাণ্ডার, বাড়বে দক্ষতা আর একটু একটু করে ক্লু পাবে হারানো মেয়েকে ফিরে পাওয়ার। এভাবেই এক পা, এক পা করে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোয় জেরাল্টের অভিযাত্রা।

সেখানে কী হয়, সেটা না হয় গেইমেই দেখে নেবেন! গেইমিং জগতের অনেক সেরার পুরস্কার জিতেছে উইচার থ্রি। গ্রাফিকস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সঙ্গে চমৎকার স্টোরিলাইনই এই গেইমের প্রাণ। বিক্রি থেকে লাভ সাড়ে ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বোঝাই যাচ্ছে, লক্ষ্মী ও সরস্বতী, দুই দেবীর আশীর্বাদই আছে উইচারের ওপর। গেইমটা খেলুন আর খেলার পর ভাবুন, ঠাকুরমার ঝুলির গল্পগুলো কী কম রোমাঞ্চকর? তবুও এসব গল্প নিয়ে হয় না কোনো গেইম!

 

খেলতে পিসিতে থাকতে হবে

-ইন্টেল কোর আই ৫ (৩.৩ গিগাহার্জ) প্রসেসর

-এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ৬৬০ জিপিইউ

-৬ গিগাবাইট র‌্যাম

-৬৪ বিট উইন্ডোজ ৭/৮

-হার্ডডিস্কে ৪০ গিগাবাইট ফাঁকা জায়গা

-বয়স ১৪+

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

Leave A Reply