মানুষ মরে গেলে ইমেইল অ্যাকাউন্টের কী হয়?

0

মানুষ মারা গেলে ইমেইল ঠিকানাগুলো নিকটাত্মীয়ের কাছে হস্তান্তর করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। বেশিরভাগ মানুষই মৃত্যুর আগে নিজের সম্পদ উত্তরাধিকারের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভার্চুয়াল দুনিয়ার এই যুগে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়। আর তা হলো মরে গেলে আমাদের ইমেইল অ্যাকাউন্টের কী হয়? মারা যাওয়ার আগে অনেকেই নিজের ব্যক্তিগত ডায়েরি এবং প্রিয় শিল্পকর্মগুলো স্বজনদের উপহার দিয়ে থাকেন। এখন প্রশ্ন হলো ইমেইলের ক্ষেত্রে কী এমনটি করা যায়?

গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল এই মর্মে যে, উত্তরসূরি না থাকলে সম্পদ বন্টনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে মৃতব্যক্তির ব্যক্তিগত ইমেইল ঠিকানায় প্রবেশ করা যাবে। অর্থাৎ, অনুমতি ছাড়াই যে কেউ আপনার ইমেইলে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে।

সাইকেল দূর্ঘটনায় মারা যান ৪৩ বছর বয়সী রবার্ট আজিমিয়ান। মারা যাওয়ার সময় কোন উত্তরাধিকার রেখে যাননি তিনি। পরবর্তীতে ভাই-বোনেরা তার ইমেইল ঠিকানায় প্রবেশের অনুমতি চান। কিন্তু আজিমিয়ানের ইমেইল তার ভাই-বোনদের সাথে শেয়ার করাটা প্রাইভেসি আইন লঙ্ঘন করে বলে জানায় ইয়াহু।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের পরিচালক অ্যালবার্ট গিডারি সংবাদমাধ্যম কোয়ার্টজকে এক সাক্ষাতকারে বলেন, আদালতের এ ধরণের নির্দেশ অর্থহীন। তিনি বলেন, ইমেইলের মাধ্যমে নিজের জীবনের ব্যক্তিগত সব তথ্য জমা রেখেছেন তিনি। সুতরাং মারা যাওয়ার পরও গ্রাহকের গোপনীয়তার কথা মাথায় রাখতে হবে আমাদের। খামোখা রাষ্ট্রের অপ্রয়োজনীয় চাহিদার জন্য মৃত ব্যক্তির ইমেইল নিকটত্মায়ীর কাছে ফাঁস করা যাবে না।

তবে নির্ধারিত সময় পার হলে ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো আপনার ইমেইল ঠিকানা মুছে ফেলবে এটা ভেবে বসে থাকাটা অবান্তর। মরার আগে আপনি হয়তো কাউকে বিশ্বাস করে ইমেইলটি মুছে ফেলার অনুরোধ করতে পারেন অথবা মরার আগে নিজেই অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলতে পারেন।

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

Leave A Reply