এসইও করার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎএর পদ্ধতি ।

5
This entry is part 5 of 18 in the series এসইও | Search Engine Optimization

গত ২বছরে গুগলের নতুন কয়েকটি আপডেট (পান্ডা, পেঙ্গুইন) দেখেছি কিংবা শুনেছি। অনেকে এটা দেখে খুব বেশি হতাশ, কেউ কেউ আতংকিত। স্বাভাবিকভাবে এটা এজন্য অনেক বেশি আলোচিত। এ আলোচিত বিষয় নিয়েই আজকে এখানে লিখতে বসেছি। আজকে আমার পুরো লিখাটাকে ৩টি ভাগে ভাগ করে লিখব।

প্রথমতঃ এস ই ও কি?

দ্বিতীয়তঃ কেন গুগলের আপডেট?

তৃতীয়তঃ এসইও করার সঠিক পদ্ধতি

 এসইও কি?

সহজভাবে বলতে পারি এসইও করা হয় কোন কোম্পানীর পণ্যের অধিক প্রচারের জন্য,  অনলাইনে করা হয় এ প্রচার। এটা যারা কাজ করে কিংবা এসইও কাজ কাজ শিখায় তাদের সবার মুখের কথা হলেও কাজ করার ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন খুব কম।

আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পণ্যের প্রচার। সুতরাং বিভিন্নভাবে পণ্যের তথ্য মানুষের কাছে পৌছাতে হতে হবে। আমরা গুগল সার্চে টপে আসসে কিনা সেটা নিয়ে যতটা চিন্তিত থাকি, ততটা ভিজিটর কেমন আসতেছে সেটা নিয়ে ভাবি কম। এবং চিন্তার ধরনটা এ দিকে হওয়ার কারণেই স্পামিং করা হয় যেটাকে আমরা বলি ব্ল্যাক হেট এস ই ও। যদি আমাদের চিন্তা ভিজিটর নিয়ে হত, তাহলে আমাদের চিন্তা ভাবনা অনেক বেশি ক্রিয়েটিভ হত। ভিজিটরকে আকর্ষণ করার চেষ্টা হত, গুগলকে নয়।

আমরা যদি লোকাল কোন একটি ব্যবসার কথা চিন্তা করি, ব্যবসাকে ভালভাবে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রথমে অফিস ডেকোরেশন করার চিন্তা করি। যতসুন্দরভাবে সাজানো যায় ততবেশি মানুষ সেই অফিসের প্রতি আস্থা পায়, মানুষ বুঝতে পারে এ অফিস ভুয়া না, তাদের কাছে গেলে আমি আমার সার্ভিস ভালভাবে পাব। যদি এটাকে অনলাইনে চিন্তা করি। তাহলে ওয়েবসাইটকে সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে প্রথম কাজ।আর এটাকেই বলে অনপেজ এসইও। এভাবে যদি আমি চিন্তা করি, তাহলে পুরো ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যায়।যেমনঃ কোন প্রতিষ্ঠান ধরনের সেবা দেয়, সেটা যাতে তাদের অফিসের গেট খুলে ঢোকা মাত্র বোঝা যায়, সে ব্যবস্থা করা হয়। একটি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও সেটাই করতে হবে। সেজন্য আমরা h1, title, image alt সহ অন্যান্য অনপেইজ প্রসেসগুলো করে থাকি।

আমাদের অফিস সাজানো শেষ। খুব ভাল করে ডেকোরেশন করলাম, অনেক খরচ করলাম। তারপর যদি আশা করি আমার ব্যবসাতে সফল হয়ে যাব, তাহলে ভুল হবে।আমাকে এবার আসতে প্রচারে। যেটাকে বলি মার্কেটিং। এমার্কেটিং অনেকভাবে করতে পারি। লিফলেট, পোস্টার, টিভিতে বিজ্ঞাপন, সেমিনারের মাধ্যমে সহ আরও অনেক পদ্ধতি অনেকে ব্যবহার করে। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগুলো করা হয়। অনলাইনের ক্ষেত্রে এ ধরনের কাজকে বলি অফপেজ এসইও। আর এ কাজের জন্য আমরা যেসব জায়গাগুলোতে মানুষ পাওয়া যাবে, সেগুলোতে গিয়ে প্রচার করে থাকি। যেমন, সোশ্যাল মিডিয়া, গেস্ট ব্লগিং, ফোরাম পোস্টিং, ব্লগ কমেন্টিং সহ আরও অনেক কিছু।আশাকরি সবার কাছে এসইও এর ব্যাপারটা পরিস্কার।

 কেন গুগলের আপডেট?

গুগলের সার্চ হচ্ছে মানুষের জন্য সেবা। মানুষ যাতে তার প্রয়োজনীয় তথ্য কিছু সার্চ দিলেই পেতে পারে, গুগল সেই সেবাটাই সবসময় দিয়ে আসছে। গুগল চায় যে কেউ কোন কিছু সার্চ দিলে যাতে সে সম্পর্কিত এমন কোন ওয়েবসাইট খুজে পায় যেখানে তার সঠিক তথ্য পায় কিংবা এটা না বলে বলতে পারি, যে তথ্য তার দরকার, সেটা যেন প্রয়োজনমত খুজে পায়। গুগল এ কাজটা করে অটোমেশন সিস্টেমে।

এ প্রক্রিয়াটি করতে গিয়ে দেখা গেল, অনেকে সার্চ দিচ্ছে কিন্তু তার প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটটি খুজে পাচ্ছে ৪-৫ নং পৃষ্ঠাতে কিংবা আরও পরে। তাহলে যে তার তথ্য খুজছে, সে সহজে তার তথ্য পাচ্ছেনা।গুগল ভাল ওয়েবসাইট নির্ণয় করার জন্য যা যা চেক করত, সেটা নিয়ে ভাবনা শুরু করল। গুগল আগে দেখত একটা ওয়েবসাইটকে কতটি ওয়েবসাইট থেকে রিকমান্ড করা হয়েছে। আর এই রিকমান্ড পাওয়ার জন্য সবাই প্রচুর পরিমানে লিংক বিল্ডিং করা শুরু করল।ব্যাপারটাকে আরও সহজ করে বলার জন্য সাধারণভাবে যদি বলি। আমি ভোটে দাড়িয়েছি। অনেককে রিকোয়েষ্ট করতেছি, আমাকে ভাল বলার জন্য, অনেক সময় এজন্য প্রচুর টাকাও খরচ করছি। এ প্রসেসে দেখা যায় চোর, ডাকাত সবারই ভাল বলার জন্য প্রচুর লোক আছে। এখন আর সেভাবে ভাল বললেই কেউ তাকে ভাল হিসেবে বিশ্বাস করেনা।

আবার আসি, অনলাইনে। গুগল দেখল, লিংক বিল্ডিং করে অনেক খারাপ ওয়েবসাইটও চলে আসছে টপে। অন্যদিকে ভাল অনেক ওয়েবসাইট চলে যাচ্ছে পিছনে।গুগল তাদের সেবাকে ভাল করার জন্য ভাল ওয়েবসাইট নির্ণয়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনল। এজন্য আসা শুরু হল একের পর এক আপডেট। যেটাকে বলা হয় পেঙ্গুইন, পান্ডা আপডেট। অনেকে এই আপডেটকে ভাল চোখে দেখছেনা। কারন কোন প্রকার নিজের ক্রিয়েটিভিটিকে ব্যবহার না করেও কিংবা কোন যোগ্যতা ছাড়া আগে এস ই ও করা যেত। আর এখন আর সেটা পারা যায়না। গুগল এখন ভাল ওয়েবসাইট নির্ণয়ের জন্য দেখা শুরু করল, মানুষ এ ওয়েবসাইটে কি পরিমাণ ভিজিট করে, কতক্ষন ওয়েবসাইটে অবস্থান করে, আরও দেখা শুরু করল ওয়েবসাইটে এসে এক পেজে থাকে নাকি অন্য পেজে যায়। যদি কোন ওয়েবসাইটে প্রচুর মানুষ আছে, তারা যদি অনেক বেশি এখানে অবস্থান করে এবং একপেজ থেকে অন্য পেজে যাওয়া আসা করে তাহলে ধরে নিতে হবে, মানুষ এ ওয়েবসাইটকে পছন্দ করছে।মানুষ যেহেতু এ ওয়েবসাইটকে পছন্দ করছে, তাহলে বলা যায় এটি একটি ভাল ওয়েবসাইট। মানুষ যেহেতু এটাকে ভাল বলছে, সুতরাং গুগলেরও ভাল বলতে কোন সমস্যা নাই।অর্থাৎ নতুন আপডেটের মুল বক্তব্য হচ্ছে, কখনও গুগলকে চিন্তা করে যাতে এসইও করা না হয়, এস ই ও করতে হবে মানুষের জন্য। যেটাকে মানুষ পছন্দ করবে, গুগল ও সেটাকে পছন্দ করবে।

 এসইও করার সঠিক পদ্ধতি

অনেকে বলে এসইও করার বর্তমান পদ্ধতি কি? এখানে অতীত, বর্তমান, কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি কখনও চিন্তিত হইনি। ৩ বছর আগেও আমি যেভাবে এসইও করেছি, এখনও একই পদ্ধতিতে এসইও করতেছি। আমার কোন ওয়েবসাইটে কখনও সমস্যা হয়নি। কারন আমি কখনও খেয়াল করার চেষ্টা করিনি যে ওয়েবসাইট গুগলে উঠেছে কিনা সবসময় খেয়াল রাখার চেষ্টা করেছি, মানুষ কি পরিমান আমার ওয়েভসাইটে ভিজিট করছে। সে ভিজিটর গুগলের মাধ্যমে নাকি কোন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে আসতেছে সেটা নিয়ে আমার খুব বেশি চিন্তা ছিলনা। এখানে নিয়মিত ভিজিটর আসলে অটোমেটিক সেটা গুগলের টপে চলে আসে। ভিজিটর পাওয়ার জন্য তিন বছর ধরে আমি যা করি সেটা এখানে সবার সাথে শেয়ার করলাম।

–   গেষ্ট ব্লগিং করি। কারন গেস্ট ব্লগিং সাইটগুলোতে নিজেদের কিছু নিয়মিত পাঠক থাকে। উদাহরণ যদি বলি, বাংলাদেশের জনপ্রিয় গেস্ট ব্লগ সাইট টেকটিউনসকে নিয়ে বলি। আমার জানামতে বাংলাদেশের প্রচুর ব্যক্তি রয়েছে যারা প্রতিদিন  শুরু করে ফেসবুকে ঢুকে, তারপর সে অবশ্যই একবার টেক টিউনস থেকে ঘুরে আসে। আর আমার ক্ষেত্রে বলব প্রতি ঘন্টাতে একবার হলেও চেক করি নতুন কোন পোস্ট পাওয়া যায় কিনা। সুতরাং গেস্ট ব্লগিং সাইটগুলোতে কোন পোস্ট দিলে ও সেখানে নিজের ওয়েবসাইটের লিংক দিলে, এখানের অনেক ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটের ব্যপারে আগ্রহ বোধ করতে পারে। তবে আপনার লেখাটা দিয়ে মানুষের মাঝে আগ্রহটি তৈরি করতে হবে যাতে সে আপনার ওয়েবসাইটে ঘুরে আসে। তাহলে গেস্ট ব্লগিং করে পাচ্ছি অনেক ভিজিটর্। আরও ভাল ফলাফলের জন্য আমার পোস্টটির লিংককে সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক জায়গাতে শেয়ার দেই, যাতে যারা টেকটিউনসে আসেনা, তারাও যাতে এ লেখাটির ব্যাপারে জানতে পারে, এবং এটা পড়তে পারে।

–   সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারকারী অনেক। সুতরাং এখান থেকে পাওয়া যাবে প্রচুর ভিজিটর। কিন্তু যারা গুগলের কথা চিন্তা করে এসইও করে, তারা তাদের ওয়েবসাইটের লিংকটি শুধু দিয়ে আসে সোশ্যাল মিডিয়াতে। আর আমার চিন্তা যেহেতু ভিজিটর, আমি কোন লিংক দেয়ার সাথে সাথে এমন কিছু কথা লিখে আছি যাতে যে কেউ আমার লিংকটিতে একবার ঘুরে আসতে আগ্রহবোধ করে।

–   ফোরাম পোস্টিং কিংবা ব্লগ কমেন্টিং করার সময়ও মাথাতে চিন্তা থাকে, আমার পোস্টটি দেখে যাতে কেউ আমার লিংকটিতে একবার ঘুরে আসে।

–   তাছাড়া ইমেইল মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন সাইটগুলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আমার ওয়েবসাইটের ব্যাপারে তথ্য জানাই।

–   অনপেজ এসইও ক্ষেত্রে সুন্দর কোন কনটেন্ট যেটা কারও কাছ থেকে নকল হবেনা, সেরকম কিছু লিখার চেস্টা থাকে সবসময়।

শুধু এটুকু চেষ্টা করেই আমি সবসময় সফল। গুগলের যত আপডেট আসুক, আমার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসেনি কখনও। ভবিষ্যতেও সফল হব, আমার বিশ্বাস। কারণ চায় ভাল ভিজিটর, ভাল ওয়েবসাইট। আর আমি সেকাজটি করি কিন্তু গুগলের জন্য করিনা, করি শুধুমাত্র মানুষের জন্য। আর অন্যদের জন্য বলব যারা লিংক বিল্ডিং করে এ কাজ করেন, তাহলে সম্মানের সাথে বলতে চাই এসইও এর কাজ আপনার জন্য না।  এতদিন এভাবে সফল হয়েছেন কিন্তু এখন আপনাদের রিটায়ার্ড করার সময় হয়েছে।

এসইও নিয়ে কিছু শেখার থাকলে কিংবা আরও কিছু জানার থাকলে ফেসবুক গ্রুপে এসে প্রশ্ন করতে পারেন।

সূত্র: ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট

Series Navigation<< Seo কি, কিভাবে ক্যারিয়ার হিসেবে এসইও শিখবেন, কি কি শিখবেন ?কী-ওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার ও বাছাইকরণ ১ম অংশ ।”SEO টিউটোরিয়াল” [পর্ব-৩] >>

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

5 Comments
  1. আকাশ says

    পোস্টটি উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 🙂

  2. আমাদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  3. রিমন says

    Thanks for share it…

  4. thanks for share.

  5. thanks for share.

Leave A Reply