হ্যান্ডস অন রিভিউঃ ওয়ালটন প্রিমো এস৬ ইনফিনিটি

0

এস সিরিজের অন্যসব স্মার্টফোনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ওয়ালটন এবার দেশে এনেছে এস লাইনআপের নতুন স্মার্টফোন ওয়ালটন প্রিমো এস৬ ইনফিনিটি। মূলত এর কম বেজেলের ডিসপ্লে এবং ডিসপ্লেটি ১৮:৯ হওয়ার কারনে একে ইনফিনিটি নাম দেয়া হয়েছে। দাম এর দিক দিয়ে বলতে হলে একে আমি বলব একটি মিড বাজেট স্মার্টফোন। কেননা এর দাম নির্ধারন করা হয়েছে ১৬৯৯০ টাকা বা বলা যায় ১৭০০০ টাকা। তবে আমাদের দেশের হিসেবে এই দাম অনেক। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই নতুন এই স্মার্টফোন সম্পর্কে।

একনজরে প্রিমো এস৬ ইনফিনিটি

  • কোয়াডকোর ১.৩ গিগাহার্জ সিপিইউ
  • মালি টি-৭২০ জিপিইউ
  • ৩ জিবি ডিডিআর৩ র‍্যাম এবং ৩২ জিবি ইন্টারনারনাল স্টোরেজ
  • অ্যান্ড্রয়েড অরিও অপারেটিং সিস্টেম
  • সামনে ৮ মেগাপিক্সেল এবং পিছে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা
  • ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারি

Un-Boxing

ডিসপ্লে

স্মার্টফোনটিতে থাকছে একটি ১৮:৯ রেশিও’র ফুল ভিউ এইচডি ডিসপ্লে। এটি একটি ৫.৫” ইন-সেল আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল এবং সাইড দিয়ে ২.৫ডি কার্ভড। ডিসপ্লেটির রেজুলেশন ১৪৪০*৭২০ যার কারনে একে বলা হচ্ছে এইচডি প্লাস। এর টাচ প্যানেল ৫ ফিংগার পর্যন্ত মাল্টিটাচ সাপোর্টেড। ডিসপ্লেটি ২৬ মিলিয়ন কালার সাপোর্টেড।

ক্যামেরা

স্মার্টফোনটির রিয়ার প্যানেলে রয়েছে একটি অটোফোকাস ক্যামেরা। এটা কারো চেহারাকে ডিটেক্ট করে নিয়ে অটোমেটিকভাবে তাতে ফোকাস স্হাপন করবে। ক্যামেরাটির ফোকাস টাইম অনেক কম। ক্যামেরাটিতে রয়েছে ৫পি লেন্স;ক্যামেরাটির অ্যাপার্চার এফ২.০। ক্যামেরাটিতে শুটিং মোড এবং সেটিংস অপশন মিলিয়ে বেশ কতগুলো ফিচার বিদ্যমান রয়েছে। রিয়াম ক্যামটি ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।

ফ্রন্টে সেলফি ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে একটি ৮ মেগাপিক্সেল বিএসআই সেন্সর যুক্ত ক্যামেরা। আর এই ক্যামেরার অ্যাপার্চার এফ২.২ এবং ব্যবহার করা হয়েছে একটি ৪পি লেন্স। এটিতেও রিয়ার ক্যামেরার মতন বেশ কিছু শুটিং মোড এবং সেটিংস অপশন বিদ্যমান রয়েছে। এই ফ্রন্ট ক্যামেরাটির সাথেও রয়েছে একটি সফট ফ্ল্যাশ। যা কম আলোতে সেলফি নিতে সহায়তা করবে।

হার্ডওয়্যার

ডিভাইসটি ৪জি সাপোর্টেড বলে এতে দেওয়া হয়েছে ৩ জিবি ডিডিআর৩ র‍্যাম । ৩ জিবি র‍্যাম এর ভেতর ২৮৬৮ এমবি এভেইলেবল। আর ইন্টারনাল স্টোরেজ ৩২ জিবির ভেতর ২৩.৫২ জিবি ব্যবহার কারীরা ব্যবহার করতে পারবে। সিপিউ হিসেবে থাকছে Cortex A53 পরিবারের মিডিয়াটেকের MT6737 চিপসেট। আর এটি ১.৩ গিগাহার্জ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কোয়াড কোর চিপসেট।

গ্রাফিক্স প্রোসেসিং ইউনিট তথা জিপিইউ হিসেবে রয়েছে এআরএম এর মালি টি৭২০ জিপিইউ। এসপল্ট এক্সট্রিম এর মত থ্রিডি গেমস খেলতে কোনরকম সমস্যা হবেনা। ডিভাইসটিতে মাগনেটিক ফিল্ড, অরিয়েন্টেশন,প্রক্সিমিটি,লাইট এবং এক্সেলেরোমিটার সেন্সর বিদ্যমান রয়েছে। এতে অবশ্য একটি ফিংগার প্রিন্ট সেন্সরও রয়েছে।

এনটুটু বেঞ্চমার্ক অ্যাপে এর স্কোর এসেছে ৩৯৫৮৪ এবং গীকবেঞ্চ অ্যাপে সিঙ্গেল কোরে এসেছে ৫৮৭ আর মাল্টি কোরে এসেছে ১৬৪৯।

বডি

ডিভাইসটি যথেষ্ঠ প্রিমিয়াম লুকিং এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের। এই ডিভাইসে খুবই উন্নতমানের ডিজাইন ফিনিস দেয়া হয়েছে। স্মার্টফোনটির ফ্রন্ট প্যানেল একেতে ২.৫ডি কার্ভড পাশাপাশি এর ব্যাক প্যানেল সম্পূর্ণ গ্লাস ফিনিস যুক্ত।

যার ফলে সম্পূর্ণ ডিভাইসটি হয়ে উঠেছে একদম অনন্য। ব্যাটারিসহ এর ওজন মাত্র ১৪৬ গ্রাম। ডিভাইসটির উচ্চতা ১৪৮ মিলিমিটার এবং প্রস্হ ৭১.৫ মিলিমিটার। আর পুরুত্ব হল ৮১.১ মিলিমিটার। ব্যাক প্যানেলে ক্যামেরার ঠিক নিচে দেখা যাবে একটি ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর।

ইউজার ইন্টারফেস


দাম হিসেবে এই স্মার্টফোনটি আরও ভালো হতে পারত বলে দাবি করেন দেশের অনেক তরুন স্মার্টফোন ইউজাররা। আর এই দামে অবশ্যই সকলের প্রথম ইচ্ছা থাকে স্ন্যাপড্রাগন কেনার। যাই হোক ডিভাইসটির ৪জি কম্প্যাটিবিলিটি এবং ডিজাইন এর কারনে মোটেও খারাপ বলা যায় না।

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

Leave A Reply