হ্যান্ডস অন রিভিউ : ওয়ালটন প্রিমো (Primo NF3) এনএফ৩

0

যারা মূলত ফ্যাবলেট টাইপের ডিভাইস পছন্দ করেন, তাদের জন্য ওয়ালটনের প্রিমো এনএফ (Primo NF) সিরিজ। প্রিমো এনএফ২ এর সাফল্যের পর এবার ওয়ালটন বাজারে এনেছে প্রিমো এনএফ২ এর সাক্সেসর প্রিমো এনএফ৩ স্মার্টফোন। আগের প্রিমো এনএফ২ স্মার্টফোন এর প্যাকেজিং এ একটি ভিআর বক্স এবং ডিফল্টভাবে ফোনটি ভিআর সাপোর্টেড হলেও ; নতুন প্রিমো এনএফ৩ এ তা থাকছে না। ফোনটিতে আগের এনএফ২ থেকে বেশি তেমন ভালো কিছু লক্ষ্য করা যায় নি। তবে এর হাই-লাইটেট পয়েন্ট হচ্ছে, এটি বাংলাদেশে তৈরি প্রথম ফ্যাবলেট। যদিও পার্টস সব চায়নার তবে অ্যাসেম্বেলিং হয়েছে আমাদের দেশে ।

নতুন মেড ইন বাংলাদেশ এই ফ্যাবলেট একটি বাজেট রেঞ্জে ফোন। আর এর প্রাথমিক দাম নির্ধারন করা হয়েছে ৭১০০ টাকা। যা পূর্বের এনএফ২ এর চাইতে ১০০ টাকা দাম বেশি।৭১০০ টাকায় এই স্মার্টফোনটি বাজারে কালো এবং সোনালী কালারে পাওয়া যাবে। তো চলুন জেনে ডিভাইসটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত।

একনজরে প্রিমো এনএফ৩

  • ৭.০ নগাট অপারেটিং সিস্টেম
  • ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াডকোর প্রোসেসর
  • ১ জিবি; ৮ জিবি র‍্যাম  ও রম
  • সামনেপিছনে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা
  • ৩৩০০ এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি
  • ৬ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে

স্মার্টফেনটির বক্স আনবক্সিং করলে এতে যা যা পাওয়া যাচ্ছেঃ 

  • প্রিমো এনএফ৩ স্মার্টফোন
  • একটি মিডিয়াম কোয়ালিটি হেডফোন
  • একটি ইউএসবি ক্যাবল
  • একটি পাওয়ার এডাপ্টার
  • ওয়ারেন্টী কার্ড ও ইউজার ম্যানুয়াল

ডিসপ্লে ও বডি

ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি বিগ তথা ৬ ইঞ্চি সাইজের ডিসপ্লে। আর আইপিএস প্যানেল হওয়ার কারনে এর ভিউইং অ্যাঙ্গেলও হবে ভালো। ডিভাইসটির পিক্সেল ডেনসিটি ৩২০ পিপিআই। রয়েছে ক্যাপাসিটিভ টাচ প্যানেল, যেটি ৫ মাল্টি ফিংগার টাচ সাপোর্টেড। আগের এনএফ২ এ প্রোটেকশন হিসেবে গরিলা গ্লাস ব্যবহার করা হলেও এতে কোনো প্রোটেকশন এর জন্য আলাদা কিছু ব্যবহার করা হয়নি।

ডিভাইসটি লম্বায় ১৬১.৩ মিলিমিটার, প্রস্থে ৮৪.৯ মিলিমিটার। ডিভাইসটি ৮.৬ মিলিমিটার পুরু। ব্যাটারিসহ এই ডিভাইসটির মোট ওজন হল ১৮৬ গ্রাম। এটি কালো এবং সোনালী দুটি কালারে বাজারে পাওয়া যাবে।

ব্যাটারি

ডিভাইসটিতে ৩৩০০ এমএএইচ ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। বড় ডিসপ্লে হওয়ার কারনে ব্যাটারি কনজিউম করবে বেশি, তাই ব্যাটারিও দেওয়া হয়েছে একটু বেশি। নরমাল ইউজে সারাদিন বা ১২ ঘন্টা কোনরকম ব্যাকআপ দিতে পারবে এটি।

ইউজার ইন্টারফেস

ডিভাইসটিতে অ্যান্ড্রয়েড এর নগাট ভার্সন ব্যবহার করা হয়েছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখানে ইউজার ইন্টারফেসে ব্যবহারকারী পুরোপুরি স্টক এর স্বাদ পাবেন। তবে আইকনগুলো অনেকটা কাস্টমাইজড। ভিতরে কিছু ফাংশন স্টক থেকে বিপরীত এবং কাস্টমাইজড। স্মার্টফোনটির ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রন এবং স্মার্টফোনটিকে ফ্যাস্ট রাখার জন্য বিল্টইন ভাবে রয়েছে DuraSpeed ফিচার।

হার্ডওয়্যার

ডিভাইসটিতে রয়েছে মিডিয়াটেকের MT6580 চিপসেট। এটি একটি চার কোর বিশিষ্ঠ কোয়াডকোর সিপিইউ। যার প্রতি কোরের ক্ষমতা ১৩০০ হার্জ। গ্রাফিক্স প্রোসেসিং ইউনিট হিসেবে এতে রয়েছে মালি-৪০০ এমপি জিপিইউ। ওয়ালটনের এই বাজেটের অন্যসব ডিভাইসে সাধারন এই হার্ডওয়্যারই দেখা যায়।

ডিভাইসটির সিস্টেমকে ব্যাকআপ দিবে একটি ১ জিবি র‍্যাম । আর এটি একটি LP DDR3 র‍্যাম । যার ৯৫৭ এমবি এর ভেতর সাধারনত কিছু অ্যাপলিকেশন ইনস্টল করলে ৩৪০ এমবির মতন Ram ফাঁকা থাকে। ইন্টারনাল মেমোরী রয়েছে ৮ জিবি, যার ভেতর ৩.৪২ জিবি ব্যবহারযোগ্য।

গীগবেঞ্চ অ্যাপে সিঙ্গেল কোরে ডিভাইসটির স্কোর এসেছে ৪১১। আর মাল্টি কোরে এর স্কোর এসেছে ১১১৫। অন্যদিকে এনটুটু বেঞ্চমার্ক অ্যাপে সবদিকদিয়ে এর স্কোর এসেছে ২৩৬৬৯। স্পেসিফিকেশন হিসেবে বেঞ্চমার্ক স্কোর এখানে ঠিকই আছে।

ক্যামেরা

ডিভাইসটির রিয়ার প্যানেলে রয়েছে একটি ৮ মেগাপিক্সেল BSI সেন্সর যুক্ত অটোফোকাস ক্যামেরা। আর এই ক্যামেরাটিতে ফেস ডিটেকশন,ডিজিটাল জুম, সেলফ টাইমার, কোন্টিনিউয়াস ফোকাস, টাচ ফোকাস এবং ভি ক্যাপচার এর মতন ফিচারস রয়েছে। ক্যামেরা সেটিংস হিসেবে রয়েছে: এক্সপোসার কন্ট্রোল,হোয়াইট ব্যালেন্স, আইএসও ব্যালেন্স, ইমেজ প্রোপার্টিস, কালার কন্ট্রোল। শুটিং মোড হিসেবে রয়েছে: নরমাল মোড,ফেস বিউটি,এইচডিআর,প্যানারোমা,সীন মোড। ক্যামেরাটি ১০৮০*১৯২০ পিক্সেল রেজুলেশনে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে পারে।

সামনে ফ্রন্ট ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে আরেকটি ৮ মেগাপিক্সেল BSI সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা। এই ক্যামেরাতে যে যে ফিচার রয়েছে সেগুলি হল: ফেস ডিটেকশন, ডিজিটাল জুম, সেলফ টাইমার এবং ভি-ক্যাপচার। শুটিং মোড হিসেবে রয়েছে: ফেস বিউটি এবল সীন(দৃশ্য) মোড।

ক্যামেরা স্যাম্পল

  


অন্যসব ডিভাইসের মত ওয়াইফাই,জিপিএস,ব্লুটুথ এসব ফিচার তো থাকছেই,স্পেশাল ফিচার হিসেবে থাকছে ডিসপ্লে কালার,কন্ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ এর জন্য মিরাভিশন, ব্যাক গ্রাউন্ড প্রোসেস ম্যানেজমেন্ট এর জনয ডিউরাস্পীড ফিচার। খারাপ দিক হল এই ডিভাইসে ৪জি সুবিধা নেই। স্পেসিফিকেশন হিসেবে ৪জি থাকার কথাও নয়। কেননা এই স্পেসিফিকেশন এর ডিভাইস ৪জি কানেক্টিভিটি হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা রাখেনা। যাই হোক, যেসব মানুষ ফ্যাবলেট টাইপের ডিভাইস পছন্দ করেন, তবে বাজেট কম তাদের জন্য এটি। তবে এখনও এর চাইতে আগের এনএফ২ মডেলটি গ্রাহকদের কাছে বেশি পছন্দ।

 

 

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

Leave A Reply