মূলপাতা ইউটিউব ইউটিউব মুছে দিচ্ছে ‘বাম্প স্টোক’ ভিডিও

ইউটিউব মুছে দিচ্ছে ‘বাম্প স্টোক’ ভিডিও

86
0
ভাগ

কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে বন্দুকধারী স্টিফেন প্যাডকের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৮ জন। ওই ঘটনায় হামলাকারী অস্ত্রে ব্যবহার করেছিলেন একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র, যেটি পরিচিত ‘বাম্প স্টোক’ হিসেবে। এই যন্ত্রটি ব্যবহার করলে অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মতোই গুলি ছোঁড়া যায় সাধারণ রাইফেল দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে এই যন্ত্রটি বিক্রি করা অবৈধ নয়, কিন্তু স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বিক্রিতে রয়েছে বিধিনিষেধ। তাই সাধারণ অস্ত্রকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের বৈশিষ্ট্য দিতে বাম্প স্টোকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর লাস ভেগাসের কনসার্টে গুলি করার সময় বন্দুকধারী এই যন্ত্রটিকে ব্যবহার করেই কম সময়ে অধিক ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করেছিলেন। ওই ঘটনার পর ব্যাপক আলোচনায় আসে যন্ত্রটি। দাবি ওঠে ইউটিউব থেকে যেন ‘বাম্প স্টোক’ সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও সরিয়ে নেওয়া হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের খবরে জানা যায়, ব্যবহারকারীদের দাবির পরিপেক্ষিতে ইউটিউব ‘বাম্প স্টোক’ ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছে।

সামাজিক খবরাখবর আদানপ্রদানের জনপ্রিয় ফোরাম রেডিটের ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ বিভাগে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ইউটিউব থেকে ‘বাম্প স্টোক’ জাতীয় সব ভিডিও সরিয়ে ফেলা হচ্ছে, যেসব চ্যানেলে এই ধরনের ভিডিও আছে সেগুলোকেও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কী হচ্ছে ইউটিউব?”

ইউটিউবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে একজন মুখপাত্র জানান, ক্ষতিকারক ও বিপজ্জনক বিষয় নিয়ে তাদের একটি নীতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি লাস ভেগাসের ট্র্যাজেডির পর আমরা ভিডিওগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখি, যেখানে দেখানো হয় (বাম্প স্টোক যুক্ত করে ) আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কীভাবে আরো দ্রুত গুলি ছোড়া যায়। আমরা আমাদের বর্তমান নীতি একটু পরিবর্তন করেছি এবং এ ধরনের ভিডিও নিষিদ্ধ করেছি।’

ইউটিউবের নীতিতে রয়েছে, যেসব ভিডিও সহিংসতাকে উসকে দেয়, সেগুলো সরিয়ে ফেলা হবে। এ ছাড়া শারীরিকভাবে আহত বা মৃত্যু হতে পারে এমন বিপজ্জ্নক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা হয় যেসব ভিডিওতে, সেগুলোও আপ করা ইউটিউবের নীতিবিরুদ্ধ।

লাস ভেগাসে বন্দুকধারী স্টিফেন প্যাডক তার সেমি-অটোমেটিক অস্ত্রকে ‘বাম্প স্টোক’ ডিভাইস যুক্ত করে আরো ভয়ঙ্কর করে তুলেছিল। এই অতিরিক্ত এডাপটর যুক্ত করাতে প্যাডকের অস্ত্রটি অল্প সময়ে অনেক বেশি গুলি ছুড়তে সক্ষম হয়, এতে হতাহতের মাত্রাও বেড়ে যায়। ১০০ ডলার মূল্যের ‘বাম্প স্টোক’ যন্ত্রটি সহজেই বিভিন্ন ধরনের রাইফেলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায়। যন্ত্রটি যুক্ত করে একবার ট্রিগার টিপলেই অটোমেটিক অস্ত্রের মতো পুরো রাউন্ড গুলি ছুড়তে পারে একটি সাধারণ সেমি-অটোমেটিক বন্দুক।

লাস ভেগাসের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন এরইমধ্যে এই যন্ত্রটির ওপর কড়াকড়ি আরোপের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ