আপডেট গুগলকে খুশি রেখেই এসইও করুন ।

8
This entry is part 7 of 18 in the series এসইও | Search Engine Optimization

অনেকেই গুগলের সার্চ সিস্টেমের নতুন আপডেটের সম্পর্কে পরিচিত না। তাই এখনো হয়তো পূর্বের নিয়মে এস.ই.ও করে যাচ্ছেন অথবা অনেকে জানেন কিন্তু পরিস্কার ধারনা হয়ত নাই। তাদের জন্য আজকের এই পোষ্ট। আজকের পোষ্টে গুগলের নতুন আপডেটের পর এস.ই.ও করার ব্যাপারে খুটিনাটি ব্যাপারগুলা তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

আমার একটি পোস্টে এসইও নিয়ে খুব সহজভাবে একটি পোস্ট লিখেছিলাম। এরপর অনেকে বর্তমানে এসইও করার কৌশল নিয়ে লিখার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাদের কথা বিবেচনা করে এ লেখা। তবে আমি না লিখে আমার একজন এসইও স্টুডেন্টকে গেস্ট ব্লগিং শিখাতে গিয়ে প্রজেক্ট হিসেবে এটি লিখতে দেই। সবাই তার ভবিষ্যত ভালোর জন্য যেকোন পরামর্শ, সমালোচনা করতে পারেন। নাম তার মেহেদী। তার ফেসবুক আইডিঃ  www.facebook.com/mhrmfc

 

মেহেদীর লেখা শুরু এখান থেকেঃ

 

 

মুল আলোচনাতে যাওয়ার আগে গুগল সার্চ আপডেটের ব্যপারে আগে কিছুটা ধারনা দেয়া দরকার। এ আপডেটগুলোর অনেক নাম রয়েছে, যেগুলো হয়ত অনেকে শুনে থাকবেন। যেমন, পেঙ্গুইন আপডেট, পান্ডা আপডেট।  গুগলের সাম্প্রতিক সব আপডেটের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সার্চ রেজাল্টকে আরো উন্নত করা। হাই কোয়ালিটি সাইটকে উপরে তোলা ও লোকোয়ালিটি সাইটকে সনাক্ত করে নিচের দিকে ঠেলে দেওয়া। এছাড়া যে কোন ধরনের স্প্যামিং, ডুপ্লিকেট কন্টেট, ব্যাক লিংক স্পামিংকে সনাক্ত ও রোধ করা হচ্ছে এসব আপডেটের মুল কাজ।  এর মূল বিষয়টি হলো কোয়ান্টিটি নয়, কোয়ালিটিই মূল বিষয়।

এইবার আসা যাক মূল আলোচনায়। পোষ্টে আমি তূলনামূলকভাবে গুগলের নতুন এবং পুরাতন স্ট্রাটেজির ডিফারেন্স তুলে ধরার চেষ্টা করব যাতে আপনারা বুঝতে পারেন ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে আপনাকে নতুন স্ট্রাটেজিতে কাজ করতে হবে।

 

প্রথমে আসি অনপেইজ অপটিমাইজিং

keyword Targeting

পূর্বের অবস্থাঃ আগে গুগল স্পেসিফিক কিছু কি-ওয়ার্ডকে প্রধান্য দিতো। প্রধানত যেসব কি- ওয়ার্ডের সার্চ ভলিওম বেশি।

বর্তমান অবস্থাঃ বর্তমানে গুগল পরিবর্তনশীল কি-ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাছাড়া কি-ওয়ার্ডের উদ্দেশ্য এবং পিপিসি রেট বিবেচনা করে।

User experience

পূর্বের অবস্থাঃ সাইটের ডিজাইন এবং এস ই ও এই দুইটা ব্যাপার সম্পূর্ণ আলাদা ছিলো। অর্থাৎ ডিজাইন এস ই ও এর ক্ষেত্রে খুব একটা প্রভাব ফেলতো না।

বর্তমান অবস্থাঃ বর্তমানে ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে গুগল সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এছাড়াও দুর্বল সাইটের সাথে সংশ্লিষ্টতা, ভিজিটর কত সময় ওয়েবসাইটে অবস্থান করে, প্রতিটা পেইজে ভিজিটর সংখ্যা, বাউন্স রেট, টাইটেল ট্যাগ ইত্যাদি বিবেচনা করে।

যেহেতু ভিজিটরদের কথা বেশি বিবেচনা করা হয়, সুতরাং নিচের বিষয় গুলো একজন ওয়েবডিজাইনারকে মাথাতে রাখতে হবে।

**রেস্পন্সিভ ডিজাইনঃ ইউজারের কথা বিবেচনা করে রেস্পন্সিভ ডিজাইন ডিমান্ড করে।

** পেইজ লোড টাইমঃ বর্তমানে এস ই ও এর ক্ষেত্রে পেইজ লোড টাইম অনেক বড় ফ্যাক্টর। পেইজ লোড টাইম কম হলে গুগল আপনার সাইটকে বেশি গুরুত্ব দিবে।

On-site Content

পূর্বের অবস্থাঃ পূর্বে on-site content এর ব্যাপারে যেসব দিক বিবেচনা করা হত

** সাইটের কন্টেন্ট লেখা হতো সার্চ ইঞ্জিনের কথা বিবেচনা করে।

** কন্টেন্টের মাঝে মেইন কি-ওয়ার্ডের কথা বিবেচনা করে গুগল প্রাধান্য দিতো

** সাইটের মাঝে সকল প্রকার কন্টেন্টকে টেক্সট হিসেবে বিবেচনা করা হতো

** গুগল সাইটের টাইটেল, মেটা ডিটেইলস, এবং টার্গেটেড কি- ওয়ার্ডকে বিবেচনা করে মেজর করতো। কিন্তু এর মাঝের কন্টেন্টের উপর তেমন গুরুত্ব দিতো না

বর্তমান অবস্থাঃ বর্তমানে On-site Content এর ব্যাপারে যেসব দিক বিবেচনা করা হয়

** এখন কন্টেন্ট মেজর হয় পাঠকের কথা ভেবে অর্থাৎ আপনার পাঠক কি চায় সেটাই আপনাকে আউটপুট দিতে হবে।

** কন্টেন্টের মাঝে অধিকবার মেইন কি-ওয়ার্ড চলে আসলে গুগল কন্টেন্টকে স্পাম হিসেবে শনাক্ত করে।

** গুগল টাইটেল, মেটা ডিটেইলসের প্রতিটা সেকশনে গুরুত্ব দেয় এবং এর উপর বিবেচনা করেই সাইটের র‍্যাঙ্কিং ইম্প্রুভ করে।

** কনটেন্টের ক্ষেত্রে এখন গুগল শুধু টেক্সট হিসেবে বিবেচনা করা না। VIDEO, INFOGRAPHICS, INTERNET MEMES, DOCUMENTS, PRESENTATION এগুলোকে গুগল আলাদা ভাবে রিড করতে সক্ষম।

 

  লিঙ্ক বিল্ডিং এবং অফ পেইজ অপটিমাইজেশন

Off-Site Content

পূর্বের অবস্থাঃ ব্যাক লিঙ্কের জন্য কপি করা কন্টেন্ট, নিম্ন মানের কন্টেন্ট তেমন একটা প্রভাব ফেলতো না। ব্যাক লিঙ্ক তৈরি করাই মুল উদ্দেশ্য ছিলো।

বর্তমান অবস্থাঃ এখন ব্যাকলিঙ্কের ক্ষেত্রেও কোয়ালিটি কন্টেন্ট এর উপর গুগল  সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়।  অর্থাৎ  শুধুমাত্র লিংক পোস্ট করে আসলে হবেনা। সে পোস্টটি এমন কোয়ালিটির হতে হবে যাতে পাঠক সেটি পড়ে আপনার লিংকে প্রবেশ করতে উৎসাহবোধ করে। এছাড়া সোস্যাল মিডিয়াতে প্রোমট করাকে অনেক বেশি গুরুত্তের সাথে বিবেচনা করে। তাছাড়া অনেকগুলা লো কোয়ালিটি সাইটের থেকে অল্প কিছু হাই কোয়ালিটি সাইটে ব্যাক লিঙ্ক দিলে অনেক বেশি হেল্পফুল।

Anchor Text

পূর্বের অবস্থাঃ লিঙ্ক বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে এঙ্কর টেক্সট সিমিলারিটি প্রধান্য দেয়া হতো। এবং র‍্যাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে এই পন্থা অনেক বেশি হেল্পফুল ছিলো।

বর্তমান অবস্থাঃ লিঙ্কিং এর ক্ষেত্রে বিচিত্রতাকে গুগল বেশি প্রধান্য দেয়।

Domain Selection

পূর্বের অবস্থাঃ ডোমেইন র‍্যাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে অনেক বড় প্রভাব ফেলতো। মেইন কি- ওয়ার্ডের সাথে ডোমেইন এর ম্যাচিং থাকলে অল্প কিছু ব্যাক লিঙ্কই গুগলের টপে উঠার জন্য এনাফ ছিলো। এখানে ডোমেইন এর অনেক বড় একটা ভূমিকা ছিলো।

বর্তমান অবস্থাঃ ডোমেইন নামের ক্ষেত্রে বর্তমানেও গুরুত্ব দেওয়া হয় তবে পূর্বের মতো একচেটিয়া নেই এখন আর। এখন গুগল ডোমেইন নামের সাথে অনেক কিছু বিবেচনা করে একটা সাইটের পজিশন নির্ধারণ করে। বর্তমানে অনেকটাই ব্রান্ডিং এর উপর নির্ভর করে। তাছাড়া সোস্যাল সাইটের সাথে লিঙ্কিং বিবেচনা করে।

Blog link

পূর্বের অবস্থাঃ র‍্যাঙ্কিং বাড়ানোর জন্য ফেইক ব্লগ, পেইড ব্লগের সাথে লিঙ্কিং করা হতো।

বর্তমান অবস্থাঃ এখন হাই কোয়ালিটি গেস্ট ব্লগিং, অ্যাক্টিভ পাঠক কতজন ইত্যাদি বিবেচনা করে ব্লগ কমেন্টের ক্ষেত্রে।

Press Releases

পূর্বের অবস্থাঃ প্রেস রিলিজের উদ্দেশ্য ছিলো প্রধানত ব্যাক লিঙ্ক তৈরি করা। প্রেস রিলিজ ভেরিফাই করা হতো না তেমন।

বর্তমান অবস্থাঃ বর্তমানে প্রেস রিলিজের ব্যাপারে গুগল অনেক শক্ত অবস্থানে। PR চেক, নিউজ ভেরিফাই ইত্যাদির মাধ্যমে গুগল প্রেস রিলিজ মেজর করে।

Blog Comments

পূর্বের অবস্থাঃ অটোমেটেড সফটওয়ার দিয়ে ব্লগ কমেন্ট করে সাইটের র‍্যাঙ্কিং ইম্প্রুভ করা যেত।

বর্তমান অবস্থাঃ একটা ব্যাপার জেনে রাখা ভালো সকল ব্যাকলিংকের উদ্দেশ্য সাইটের ভিজিটর বাড়ানো। অর্থাৎ আপনাকে এমনভাবে কমেন্ট দিতে হবে যাতে পাঠক ইমপ্রেস হয়ে আপনার সাইট ভিজিট করে।

Social Media

পূর্বের অবস্থাঃ সোস্যাল মিডিয়ার থেকে লিঙ্কিং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। তখন Digg,StumbleUpon, yahoo buzz ইত্যাদি সাইটে লিঙ্কিং করা হতো।

বর্তমান অবস্থাঃ সোস্যাল মিডিয়াকে প্রোমোশন এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রধান করা হয়। অর্থাৎ Google+, Twitter, facebook, linked in এগুলো হলো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে বলতে চাই যেহেতু এখন ভিজিটরকে আপনার ওয়েবসাইটে আনা, এবং ভিজিটরকে সন্তুষ্ট করতে পারলে এস.ই.ও তে সফল হওয়া যায়। সে ব্যাপার চিন্তা করে ওয়েবসাইটের কোয়ালিটি কনটেন্ট, গেস্ট ব্লগিং, কোয়ালিটি লিংক বিল্ডিং করতে হবে। কোয়ালিটি লিংক বিল্ডিং বলতে যায়, এমনভাবে লিংক বিল্ডিং বলতে বোঝায়, এমনভাবে লিংকবিল্ডিং করতে হবে, যাতে সে লিংকে ক্লিক করে কোন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে আগ্রহবোধ করে। এবং অবশ্যই ভাল ওয়েভসাইটে এবং রিলেটেড ওয়েবসাইটে লিংক বিল্ডিং করতে হবে। নতুন আপডেটের ব্যপারে আতংকিত হওয়ার কিছু নাই। কারন বর্তমানে খুব অল্প পরিশ্রমে নিয়মমেনে যেকোন ওয়েবসাইটকে গুগল সার্চের টপে নিয়ে আসা যায়। আরও কিছু জানতে হলে, ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের ফেসবুকগ্রুপে জয়েন করে প্রশ্ন করতে পারেন।। ইকরাম স্যার নিজে আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিবেন।

ফেসবুকগ্রুপঃ https://www.facebook.com/groups/creativeit

Series Navigation<< কী-ওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার ও বাছাইকরণ ১ম অংশ ।”SEO টিউটোরিয়াল” [পর্ব-৩]কী-ওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার ও বাছাইকরণ ২য় অংশ ।”SEO টিউটোরিয়াল” [পর্ব-৪] >>

ফেসবুক থেকে মন্তব্যঃ

8 Comments
  1. Ahmed Solayman Rony says

    আমার এটি দারুন কাজে লেগেছে। এই রকমের তথ্যবহুল পোষ্ট পড়ার মজাই আলাদা।
    techtonesbd

  2. আকাশ says

    পোস্টটি উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 🙂

  3. Thanks for your nice & useful post.

  4. রিমন says

    Thanks for share it…

  5. thanks for share

  6. Mod_uR_minD says

    Nice post

  7. মোহাম্মদ জাকারিয়া says

    শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

  8. thanks for share.

Leave A Reply